বেড়ে ওঠার ভয়, কিংবা ভয়ের বেড়ে ওঠা

ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে যখন কোন ভয়-ই কাজ করত না মনে। কোন কিছু নিয়ে ভয় পেলেও সেটা কেমন জানি উত্তেজনায় পরিপূর্ণ ছিল। অন্ধকারে ভয় পেলেও সেটা ছিল নতুন কোন অভিজ্ঞতা হবার প্রতীক্ষায়, সেটা পরাবাস্তব হোক বা না-ই হোক। কিংবা প্রতিটা নতুন দিনই যেন নতুন ছিল। এটার অবশ্য বৈজ্ঞানিক ব্যখ্যাও আছে হয়ত। ছোটবেলার দিনগুলো আসলে হয়ত খুবই সাধারণ ছিল, কিন্তু ছোটবেলায় ওই সময়টা ছিল আমার বয়সের অনুপাতে আমার সারাজীবন। এখন এত বড় হয়ে যাবার পর ছোটবেলার সেই সময়টা হয়ে গেছে আমার এখন পর্যন্ত যাপিত জীবনের অর্ধেকের মত। তখন তৈরী করা স্মৃতিগুলো এখনও অনেক বৃত্তান্ত সহ মনে করতে পারি, ফলে তখনকার উৎসাহ-উদ্দীপনাগুলো আমার মনে অনেক উজ্জ্বল বর্তমান কিংবা সাম্প্রতিক স্মৃতির তুলনায়।

এমনিতেও বড় হবার সাথে সাথে ভয় কমবে এটাকে মনে হয় স্বাভাবিকভাবেই দেখা হয়। এটা মন লাগিয়ে ভাববার মত কোন বিষয়-ও না বেশিরভাগ মানুষের কাছে। বড় হবার সাথে সাথে অনেক বড় প্রশ্ন ছোট হয়ে যায়। যেমন, বড় হয়ে কি হব এই বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্নটা এখন আর তেমন ভার রাখে না আমার কাছে। একটা কারণ হতে পারে যে আমি অনেকটাই নিশ্চিত কী বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে ভবিষ্যতে। আবার এটাও হতে পারে যে, যেটাই হবার স্বপ্ন হোক না কেন কিছু একটা করে দেখাবার সময় ঘনীয়ে আসছে, সেটা যে কোন কিছু হলেও হবে। উল্টোভাবে ভাবলে দেখা যাবে ছোট প্রশ্নগুলো বড় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, যেমন কাল কি পরে বাসা থেকে বের হব। এটার ওপর অনেকটা নির্ভরই করে আমার দিনটা কেমন কাঁটবে।

এমন সব ব্যাপারও ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে যেগুলো নিয়ে ভয়ার্তভাবে ভাবতে পর্যন্ত হাসি পায়। এমন ভয়গুলোর একটা হল কীভাবে বিরক্তি (boredom) দুর করব। টিভি, মুভি কিংবা গান, কোন কিছুতেই যেন এখন আর মনের সাধ মিতে না, যেন এগুলো তো এমনই হবার কথা, কী-ইবা নতুন আশা করার মত আছে? এমন কি বয়ঃসন্ধির সময়ের যেসব লুকানো-ছাপানো(শ্লেষার্থে) আকর্ষণ ছিল সেগুলোও ম্লান হয়ে গেছে বড় গড়াতে গড়াতে। অথচ তখনকার একটা ভাল পরিমাণ সময় জুড়ে এগুলোই ছিল ছোট্ট জীবনটার জল্পনা-কল্পনার প্রধান বিষয়।

সময়কে তো আর ঠেঁকিয়ে রাখা যায় না, সময়ও বসে থাকে না যে কখন আমি ভেবে বের করব ভয়ের সাথে যুদ্ধ করব কী করে। ভয় দুর করার স্ট্র্যাটেজিগুলো, কিভাবে শুলে ভয় কম লাগবে কিংবা বাবার কোন কলমটা চুরি করলে বাবা বুঝতে পারবেন না, সেগুলো ছিল বিস্তর চিন্তাভাবনার ফসল। যেন ভালমত প্ল্যান না করলে কোনভাবেই পার হওয়া যাবে না এই সব “পরীক্ষা”। আর এখনকার ভয়গুলো-ও যেন তোয়াক্কাও করত না আমি কী ভাবছি তাদের নিয়ে। যে মেয়েটাকে পছন্দ করি তার সাথে কথা বলব কী করে? Who cares? যা হবার তা-ই হবে। ফাইনাল পরীক্ষার সিলেবাস মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে? কারও গা নেই। যা হবার তা-ই হবে। বেহায়া এই ভয়গুলো জীবন থেকে জয় করার আনন্দটাই কেঁড়ে নিয়ে গেছে।

স্বপ্ন দেখলেই ভয়, অথচ স্বপ্ন ছাঁড়া বাঁচা দায়।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s